স্কাই এষ্টেরিয়ার
নির্মাণযাত্রায় একেকটি দিন ছিল একেকটি ইতিহাস। পাইলিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর যখন
পাইলের মাথা কাটার কাজ শুরু হলো, তখন পুরো প্রজেক্ট এলাকা যেন নতুন এক কর্মযজ্ঞে পরিণত হয়েছিল। একদিকে
ভেকু দিয়ে মাটি সরানো ও কাটার কাজ, অন্যদিকে শ্রমিকরা
পাইলের মাথা ভেঙে নির্দিষ্ট উচ্চতায় নিয়ে আসছেন। আর তার পাশেই শুরু হয়ে গেছে
পাইলিং ক্যাপের জন্য রড কাটাই, বাঁকানো ও বাঁধাইয়ের বিশাল
আয়োজন।
একসঙ্গে এতগুলো কাজ চলায় পুরো
প্রজেক্ট এলাকা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে থাকত। কোথাও মাটি কাটার শব্দ, কোথাও লোহার রড কাটার ঝনঝন শব্দ,
আবার কোথাও শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণা ও কথাবার্তা সব মিলিয়ে মনে
হতো, একটি স্বপ্ন যেন ধীরে ধীরে চোখের সামনে বাস্তব রূপ
নিচ্ছে।
পাইলের মাথা ভাঙার কাজ ছিল
মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়। প্রতিটি পাইলের মাথা নির্দিষ্ট মাপ ও উচ্চতায় ভেঙে
পরিষ্কার করতে হয়েছে। অনেক শ্রমিক একসঙ্গে এই কাজে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে
কঠোর পরিশ্রম করে একের পর এক পাইলের মাথা প্রস্তুত করা হচ্ছিল। তাদের ঘামে ভিজে
যাওয়া শরীর, ক্লান্ত
মুখ আর নিরলস পরিশ্রমের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যতের একটি সুন্দর আবাসনের স্বপ্ন।
অন্যদিকে চলছিল রড বাঁধাইয়ের
বিশাল কর্মযজ্ঞ। মাঠজুড়ে ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য রড। শ্রমিকরা মেপে মেপে রড কাটছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বাঁকাচ্ছেন এবং
একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করছেন বড় বড় রডের জালি। পাইলিং ক্যাপের জন্য যে
শক্তিশালী কাঠামো প্রয়োজন, সেই কাঠামোর ভিত্তি তৈরি
হচ্ছিল এই রডের জালির মধ্য দিয়েই।
একদিকে রড কাটা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই রডগুলো দক্ষ হাতে
বাঁধাই করে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির রডের জালি। কেউ মাপ দিচ্ছেন, কেউ রড কাটছেন, কেউ রড ধরে রাখছেন, আবার কেউ দ্রুত হাতে তার দিয়ে একটির সঙ্গে আরেকটি রড শক্ত করে বেঁধে
দিচ্ছেন। কাজের ব্যস্ততায় কারও যেন দম ফেলার সময় নেই।
তবুও সেই ক্লান্তির মাঝেও ছিল
আনন্দ। ছিল সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস। কারণ সবাই জানতেন আজকের এই পরিশ্রমই
একদিন একটি পূর্ণাঙ্গ ভবনের শক্ত ভিত হয়ে দাঁড়াবে।
প্রজেক্ট এলাকায় তখন শুধু
শ্রমিকদের কাজের শব্দই শোনা যেত না, শোনা যেত তাদের কথাবার্তা, হাসি-ঠাট্টা আর
কর্মব্যস্ততার গুঞ্জন। চারপাশে ছিল এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য। মনে হতো, নিস্তব্ধ একটি জায়গা ধীরে ধীরে মানুষের স্বপ্ন, শ্রম আর ভালোবাসায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।
মাটির নিচে পাইল, তার ওপর পাইলিং ক্যাপ, আর সেই ক্যাপের ভেতরে শক্ত করে বাঁধা রড প্রতিটি ধাপই ছিল ভবিষ্যতের
ভবনের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের সঙ্গে জড়িত। বাইরে থেকে হয়তো শুধু রড আর কংক্রিটের
কাজ মনে হতো, কিন্তু যারা এই নির্মাণযজ্ঞের সঙ্গে ছিলেন,
তারা জানতেন প্রতিটি রডের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি স্বপ্ন, প্রতিটি শ্রমিকের ঘামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি ভবিষ্যৎ।
সেই সময় প্রজেক্ট এলাকায়
দাঁড়িয়ে চারপাশের দৃশ্য দেখলে মনে হতো,
এতদিন যে স্বপ্ন শুধু কাগজে, নকশায় আর
কল্পনায় ছিল, সেটি এখন ধীরে ধীরে বাস্তবের পথে হাঁটছে।
মাটির গভীর থেকে উঠে আসছে ভবিষ্যতের আবাসনের ভিত্তি। একদিকে মাটি সরছে, অন্যদিকে পাইলের মাথা প্রস্তুত হচ্ছে, আর তার
সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল রডের কাঠামো।
দিনের পর দিন শ্রমিকদের
অক্লান্ত পরিশ্রমে কাজ এগিয়ে যাচ্ছিল। কখনো প্রচণ্ড রোদ, কখনো ধুলো মাটি, কখনো ক্লান্তি কোনো কিছুই যেন কাজের গতি থামাতে পারেনি। কারণ সবার
চোখের সামনে তখন একটি লক্ষ্য একটি স্বপ্নের আবাসনকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।
আজ সেই সময়ের কথা মনে করলে
বোঝা যায়, একটি ভবন
শুধু ইট, বালু, রড আর কংক্রিট
দিয়ে তৈরি হয় না। একটি ভবন তৈরি হয় অসংখ্য মানুষের শ্রম, সময়,
ধৈর্য, ত্যাগ আর স্বপ্ন দিয়ে। পাইলের
মাথা কাটার সেই শব্দ, রড কাটার ঝনঝনানি, শ্রমিকদের ব্যস্ততা আর প্রজেক্ট এলাকার সেই কর্মমুখর পরিবেশ সবকিছুই
ছিল স্কাই এষ্টেরিয়ার নির্মাণ ইতিহাসের এক একটি অমূল্য অধ্যায়।
ধীরে ধীরে পাইলিং ক্যাপের রড
বাঁধাই শেষ হতে লাগল। একের পর এক প্রস্তুত হতে লাগল বিশাল রডের জালি। মাটির নিচের
শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের ভবনের কাঠামো যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
সেদিন হয়তো সবাই বুঝতে পারেনি, এই ছোট ছোট কাজগুলোই একদিন একটি
বিশাল আবাসনের রূপ নেবে। কিন্তু সময় প্রমাণ করেছে স্বপ্ন যখন শ্রমের সঙ্গে যুক্ত
হয়, তখন অসম্ভবও ধীরে ধীরে সম্ভব হয়ে ওঠে।
স্কাই
এষ্টেরিয়ার সেই দিনগুলো ছিল শুধু নির্মাণের দিন নয় সেগুলো ছিল একটি স্বপ্নকে
বাস্তবে পরিণত করার দিন।
মাটির গন্ধ, লোহার রডের শব্দ, শ্রমিকদের ঘাম আর চারপাশের কর্মচাঞ্চল্যের মাঝে ধীরে ধীরে এগিয়ে
যাচ্ছিল সেই বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের আবাসন। প্রতিটি দিন, প্রতিটি শ্রম আর প্রতিটি ধাপ আজ তার নির্মাণ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।
